রকেটের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণে রাশিয়ায় নিহত ৫

0
24

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ায় একটি শক্তিশালী রকেট বিস্ফোরণে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত পাঁচ রুশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে তিনজন। দেশটির রাষ্ট্রীয় আণবিক সংস্থা ‘রসাটম’ জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকালে গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌঘাঁটির টেস্ট রেঞ্চে আচমকা ওই রকেটটির বিস্ফোরিত হয়। আর এতেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংস্থাটির মতে, একটি লিকুইড প্রোপেলেন্ট রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষা চালানোর সময় আচমকা ওই বিস্ফোরণটি ঘটে। অনাকাঙ্ক্ষিত সেই আহত তিন সদস্যের শরীর পুরোপুরি পুড়ে গেছে। তারা এখন পর্যন্ত জীবিত হলেও প্রত্যেকের অবস্থাই আশঙ্কা জনক।

এর আগে রুশ কর্মকর্তারা নিওনোকসা সাইটে ঘটা সেই বিস্ফোরণের ফলে তাৎক্ষণিক দুইজন নিহত এবং ছয়জনের গুরুতর আহত হওয়ার খবর জানিয়ে ছিলেন।

‘রসাটমে’র এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা ‘আরটি’কে বলেন, ‘আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল টিম মূলত প্রোপাসল সিস্টেমের জন্য একটি আইসোটোপ পাওয়ার সোর্স নিয়ে কাজ করছিল। আর তখনই সেখানের একটি মিসাইল আচমকা বিস্ফোরিত হয়।’

‘রসাটমে’র এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাশিয়ান নৌবাহিনীর জন্য প্রায় সব মিসাইল ব্যবস্থা এই নিওনোকসা সাইটেই পরীক্ষা চালানো হয়। যার মধ্যে রয়েছে- সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ যোগ্য আন্তঃ মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং অ্যান্টি-এয়ারক্রাফটের মতো বিধ্বংসী মিসাইল ব্যবস্থা।’

এ দিকে নিওনোকসা সাইট থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সেভেরোদভিঙ্কের কর্তৃপক্ষ জানায়, শক্তিশালী সেই বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পর তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে এর প্রায় ৪০ মিনিট পর আপনাআপনি তা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

অপর দিকে বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা মেডিকেল আয়োডিন কেনার জন্য আশপাশের ফার্মেসিগুলোতে ভিড় জমান। যে কারণে আরখানগেলস্ক ও সেভেরোদভিঙ্ক শহরে ফার্মেসিগুলোর আয়োডিন শেষ হয়ে গেছে বলেও খবর পাওয়া যায়।

এর আগে ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু বিপর্যয়ের পর আয়োডিন কেনার ধুম পড়েছিল। কেননা ভয়াবহ সেই পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর গোটা ইউরোপে ব্যাপক মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। যার রেশ সেসব অঞ্চলে কালক্রমে এখনো বিদ্যমান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here