ফের মশার উপদ্রব অতীষ্ঠ খুলনাবাসী

0
117

আমাদের খুলনা ডেস্ক
ড্রেনে পানি জমে থাকছে, ঝোপ-ঝাড় বা ফুলের বাগানও সঠিকভাবে পরিষ্কার হচ্ছে না, সেফটি আউট লেট খোলা থাকার কারণে ময়লা সরাসরি ড্রেনে গিয়ে পড়ছে। এছাড়া বর্তমান সময় চলছে প্রজনন মৌসুম। ফলে নগরীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নগরীর বাসিন্দারা। কেসিসি বলছে, মশক নিধনে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নগরীতে অন্তত দুই হাজার ৮৩৫ লিটার মশক নিধন ওষধ স্প্রে করা হচ্ছে। তবে মশা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হলে সকলকে সচেতন হতে হবে।

কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সি শাখা সূত্র জানায়, নগরীর মশার প্রকোপ কমিয়ে আনতে মশক নিধনে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) তিনটি ধাপে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথম ধাপে উড়ন্ত মশক নিধনে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ১০ লিটার করে অর্থ্যাৎ ৩১টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৩১০ লিটার অ্যাডাল্ট্রিসাইড ফগার মেশিন দিয়ে ¯েপ্র করছে। দ্বিতীয় ধাপে প্রতি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৬০ লিটার পানিতে ৬০০ এম এল পরিমাণ লার্ভিসাইড মিশিয়ে ¯েপ্র করা হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে মশার ডিম নষ্ট করতে প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলোতে প্রতিদিন ২০লিটার করে অর্থাৎ ৩১টি ওয়ার্ডে ৬২০ লিটার লাইট ডিজেল (কালো তেল) ¯েপ্র করা হচ্ছে।

তবে সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ, ফর মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। দিনে-রাতে বেশি অশান্তি সৃষ্টি করছে। ছেলে-মেয়রা মশার কারনে সঠিকভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না।

খুলনা সদর (জেনারেল) হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, মশার দংশন ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এজন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। মশক নিধনে কেসিসি’র মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বত্র স্প্রেরের ব্যবস্থা করতে হবে।

কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উন্নয়ন কাজ চলমানসহ নানা কারণে ড্রেনে পানি সরবারহ না থাকা, ঝোপ-ঝাড় বা ফুলের বাগান পরিষ্কার না করা এবং সেফটি আউট লেট খোলা থাকার ফলে মূলতঃ মশার উপদ্রব বেড়েছে। এছাড়া শহরের আশপাশ থেকেও মশা আসছে। আর এখন মশার প্রজনন মৌসুম। তবে মশক নিধনের কাজ চলছে। শুধু মাত্র ওষুধেই মশা যাবেনা। মশা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হলে সকলকে সচেতন হতে হবে। ড্রেনে বর্জ্য ফেলা যাবে না, স্রোত থাকতে হবে, ঝোপঝাড়, ফুলের বাগান ও খাল বা পুকুর কচুরিপানা পরিষ্কার রাখতে হবে।

এর আগে গত রবিবার (১৫ নভেম্বর) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সী বিভাগ আয়োজিত সভায় সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছিলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি এখনো আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। খুলনায় করোনা সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে এবং ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার সংক্রমণ দেখা দেয় নাই। এ পরিস্থিতি বজায় রাখতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার সাথে সাথে নগরীতে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সিটি মেয়র নাগরিকদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনা পরিচ্ছন্ন রাখা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সূত্র: সময়ের খবর

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here