নোবেলকে ঘিরে যত বিতর্ক

0
62

বিনোদন ডেস্ক
ভারতের জি বাংলা টিভি চ্যানেলে প্রচারিত গান বিষয়ক রিয়্যালিটি শো ‘সা রে গা মা পা’ অনুষ্ঠানটি দুই বাংলায়ই ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রতিযোগী মাইনুল আহসান নোবেলকে। গান দিয়ে বাংলাদেশে ও কলকাতায় অসংখ্য ভক্ত তৈরি করেছেন গোপালগঞ্জের ছেলে নোবেল। শুধুমাত্র ‘সা রে গা মা পা’ শো-য়ের বদৌলতেই বেশ কয়েকজন গীতিকার, সুরকার, গায়ক ও সংগীত পরিচালকের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তবে যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তার চেয়েও বেশি বিতর্কের দানা বেঁধেছে নোবেলকে ঘিরে। প্রথম বিতর্ক শুরু হয় মাস খানেক আগে ‘সা রে গা মা পা’-এর প্রাথমিক ফলাফলে যখন তাকে তৃতীয় ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোবেল ভক্তদের ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়। কেননা, শো-টির শুরু থেকে নোবেল যেভাবে একের পর এক হিট গান গেয়ে বিচারক ও দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন, তাতে ফলাফল ঘোষণার আগের দিন পর্যন্তও সবার ধারণা ছিল, নোবেলই চ্যাম্পিয়ন হবেন। কিন্তু হয়েছেন তৃতীয়।

নোবেলকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল সকল বিচারকদেরও। কয়েকটি পর্বে নোবেলের গান শোনার পরই বিচারকরা তাকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার বলে ঘোষণা করেছিলেন। তারা নোবেলের নামও রেখেছিলেন। বিস্ময় বালক। কিন্তু শেষমেশ সেই বিচারকদের রায়েই ‘বিস্ময় বালক’ নোবেল শো-য়ের আরেক শক্তিশালী প্রতিযোগী গৌরব চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় রানার আপ হন। যেটা নিয়ে নানা মাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। এই বিতর্কটা অবশ্য নোবেলের পক্ষেই ছিল।

কিন্তু এরপর যতগুলো বিতর্কের জন্ম হয়েছে, তার সবগুলো নোবেলের বিপক্ষে। ‘সা রে গা মা পা’ অনুষ্ঠানে দেশের নামকরা গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও সুর করা ‘মা’, ‘বাবা’, ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’ শিরোনামের তিনটি গান গেয়ে শোনান তিনি। কিন্তু গানের শিল্পীদের নাম বললেও কোনো বারই নোবেল গান তিনটির শ্রষ্টা প্রিন্স মাহমুদের নাম উল্লেখ করেননি। এ নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাড়েন প্রিন্স মাহমুদ। পরে অবশ্য সোনারগাঁ হোটেলে আযোজিত গীতিকারের জন্মদিনে উপস্থিত হয়ে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন নোবেল।

এই বিতর্ক শেষ না হতেই তিনি জড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বিতর্কে। সম্প্রতি একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে নোবেল মন্তব্য করেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথের লেখায় নয়, প্রিন্স মাহমুদের লেখায় আমার সোনার বাংলাকে বেশি ভালোভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। এই গানের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের আবেগ। বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলার মানুষের সঙ্গে এই সোনার বাংলার যোগ অনেক বেশি। এমনকী জেমসের ‘বাংলাদেশ’ গানটিই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিল হয়েছিল। আমিও এ বিষয়ে একমত।’

নোবেলের এই সাক্ষাৎকার প্রচার হওয়ার পর তা দেখে ফুঁসে ওঠেন স্বয়ং তার ভক্তরাই। যে নোবেলকে তারা ভালোবেসে মনের আসনে ঠাঁই দিয়েছিল, জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলায় সেই নোবেলকে তারা ছুঁড়ে ফেলে দেন। ক্ষোভ ঝাড়েন কলকাতার সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীও। নিজের ফেসবুকে নোবেলের ওইদিনের সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ শেয়ার করে ইমন ক্যাপশনে লিখেন, ‘ইনাকে সামনে পেলে চাবকাতাম।’ জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলে নোবেল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করেছেন বলেও দাবি করেন ইমন।

দুদিন না যেতেই সেই জাতীয় সংগীত বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একাধিক বিতর্ক। ‘সা রে গা মা পা’-এর শো চলাকালীন এক বিচারককে নাকি নোবেল বলেছিলেন, ‘তার গান বিচার করার ক্ষমতা ওই বিচারকের নেই। যার কারণে জি বাংলা চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কিছুদিনের জন্য নোবেলকে সাসপেন্ড করে রাখে। গুঞ্জন রয়েছে, শো-য়ের বাকি প্রতিযোগীদের সঙ্গেও নোবেল বেশ নাকউঁচু ভাব নিয়ে চলতেন। এমনকী, বাংলাদেশের কোনো শিল্পীকেই তার যথাযোগ্য মনে হয় না বলে নাকি মন্তব্য করেন।

এসব বিতর্ক সামনে আসার পর নতুন করে তাই গুঞ্জন শুরু হয়েছে, ‘সা রে গা মা পা’ শো-য়ের বিচারককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের অভাব এবং আচরণগত আরও অনেক সমস্যার কারণে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিপুল সম্ভাবণা থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থ হতে হয়েছে নোবেলকে। কিন্তু যাকে নিয়ে এত বিতর্ক, সেই নোবেল এখনও কোনো বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। জাতীয় সংগীত বিতর্কের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই না।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here