নিভে গেল চার মেধাবী ছাত্রের জীবন : শোকে স্তব্ধ কুয়েট

0
312

আমাদের খুলনা রিপোর্ট

ময়মনসিংহের ভালুকায় ভবনে বিস্ফোরণে দগ্ধ কাউকেই বাঁচানো গেল না। অবশেষে গত ৩০ মার্চ (শুক্রবার) সকাল নয়টার দিকে দীপ্ত সরকারকেও মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। অগ্নিদগ্ধে নিভে গেল কুয়েটের চার মেধাবী ছাত্রের জীবন।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন, তৌহিদুল ইসলাম, শাহিন মিয়া, হাফিজুর রহমান ও দিপ্ত সরকার। তারা সবাই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ভালুকায় স্কয়ার ফ্যাশনে এরা শিক্ষানবীশ ছিলেন।
গত শনিবার রাতে ভালুকার মাস্টার বাড়ি এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের তিনতলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে এ ঘটনায় দগ্ধ তিনজনকে গত রবিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে বুধবার মারা যান দগ্ধ শাহীন। বৃহস্পতিবার মারা যান হাফিজুর রহমান (২৪)। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে দীপ্ত সরকারকেও মৃত ঘোষণা করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক।
এদিকে, মেধাবী চার শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন তিন শিক্ষার্থীই তাদের পরিবার, সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আত্মীয়স্বজন সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত ২৫ মার্চ রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
কুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের চার জন শিক্ষার্থী গত ১০ মার্চ থেকে স্কয়ার গ্রুপের একটি টেক্সটাইল মিলে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টের (ইন্টার্নি) জন্য ময়মনসিংহের ভালুকার মাস্টার বাড়ি এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয়তলায় ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। গত ২৫ মার্চ রাত ১টার দিকে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার রাতে মো. শাহীন মিয়া, বৃহস্পতিবার রাতে মোঃ হাফিজুর রহমান এবং গত শুক্রবার সকালে দীপ্ত সরকারের মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চার মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন,‘ গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের শোক পালন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে’।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। ঢাকায় অবস্থানরত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এতদিন হাসপাতালে অবস্থান করে চিকিৎসার সবধরনের সহযোগিতা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল করে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চির বিদায় নিলেন কুয়েটের মেধাবী চার শিক্ষার্থী।
এদিকে, কেন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তা এখনো উৎঘাটিত হয়নি। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে আইনগত সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিসিএসআইআয়ের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা এবং কুয়েটের শিক্ষক সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here