জালিয়াতির অভিযোগে দুই আইনজীবীসহ আটক ৩ : জাল ওকালত ও জামিননামা উদ্ধার

0
409

স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় ওকালতনামা ও জামিননামা জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসএম আরিফুর রহমান (৩২) নামে একজন আইনজীবী প্রেস থেকে ছাপিয়ে ওকালতনামা ও জামিননামা অন্য আইনজীবীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। বিষয়টি ফাঁস হলে গত শুক্রবার রাতে দু’ আইনজীবীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিন আইনজীবীসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খুলনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ওকালতনামা, বেলবন্ড, বার কাউন্সিল স্টিকার নকল করে বিক্রি করে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটকের জন্য পুলিশের নজরদারিও চলছিল। গত শুক্রবার রাতে পুলিশ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে দুই আইনজীবী ও একজন পিয়নকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৪৪টি জাল ওকালতনামা, ২৯টি জামিননামা (বেলবন্ড), ৪৪টি বার কাউন্সিল স্টিকার এবং জেলা বারের সাধারণ সম্পাদকের সীল জব্দ করা হয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্য জানান, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম আরিফুর রহমান প্রেস থেকে জাল ওকালতনামা ও জামিননামা ছাপিয়ে বিভিন্ন আইনজীবীর কাছে সরবরাহ করে। বিষয়টি সিনিয়র আইনজীবীদের নজরে আসার পর তারা অনুসন্ধান করে সত্যতা পান। পরে এসএম আরিফুর রহমানকে হাতে-নাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি আইনজীবীদের কাছে লিখিত মুচলেকায় স্বীকার করেন, ‘আমি নিয়মিত খুলনা জজকোর্টে প্র্যাকটিস করি, আমি আমার সংসারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে প্রেস থেকে ওকালতনামা ও জামিননামা (বেলবন্ড) ছাপিয়ে থাকি, আমি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেনের কাছে ৭০ পিস ওকালতনামা ও জামিননামা এবং অ্যাডভোকেট বিউটি আক্তারের কাছে ৭০ পিস ওকালতনামা এবং ১০০ পিস জামিননামা বিক্রি করি’। এ সময় আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট এসএম আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট জি.এম শাহাদাত হোসেন ও আইনজীবী সমিতির পিয়ন মারুফ শেখকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মশিউর রহমান নান্নু বাদী হয়ে ৪জনকে আসামি করে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মশিউর রহমান নান্নু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অ্যাডভোকেট এসএম আরিফুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে বার কাউন্সিলের স্টিকারসহ হাজার হাজার জাল ওকালতনামা ও জামিননামা ছাপিয়ে বিক্রি করছে। তিনি জানান, আরিফ জাল ওকালতনামা ও জামিননামা ছাপিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির পিয়ন মারুফকে দিয়ে বিক্রি করতো। আর বারের সদস্য শাহাদাত ও বিউটি কিনতো। এ ঘটনায় ৪জনকে আসামি করে তিনি মামলা দায়ের করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here