চামড়া পাচাররোধে সীমান্তে নজরদারী

0
39

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাসের অজুহাতে ছয় বছরের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমেছে চামড়ার দাম। বিপরীতে জুতা, ব্যাগ, বেল্টসহ চামড়াজাত সকল পন্যের দাম বেড়েছে দফায় দফায়। কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত চামড়ার এ মূল্য বৈষম্যের নির্মম শিকার দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও দেশী চামড়া শিল্প। চামড়ার মূল্য হ্রাসের সুফলভোগী লাভবান রপ্তানিকারক, চামড়া কেন্দ্রীক বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশী চামড়াজাত পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো।

অর্থনীতিবীদদের মতে, চামড়ার পাচারের কারণেই মূলতঃ কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের মাঝখানে বিস্তর মূল্য বৈষম্য। এবছর রেকর্ড পরিমাণ মূল্য হ্রাসের কারণে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ী ও মৌসুমী ফঁড়িয়ারা চামড়ার বেশি দাম পেতে চোরাচালানের দিকে ঝুঁকবেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এবার চামড়া পাচার প্রতিরোধে র‌্যাব, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বিজিবি’র তিন স্তরের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। পাচার রোধ করতে পারলে দেশে চামড়া শিল্পের অপার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, ২০১৪ সালে দেশে কোরবানির ঈদে গরুর চামড়ার বর্গফুট প্রতি দাম ছিল ৭০-৭৫ টাকা। চলতি বছর তা নেমে এসেছে ৩৫-৪০ টাকায়। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে দেশে গরুর চামড়ার দাম ৫০ শতাংশ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর গত বছরের তুলনায় দাম কমেছে ২৯ শতাংশ।

খুলনা জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ঢালী বলেন, খুলনায় চামড়ার ব্যবসা আছে, ব্যবসায়ী নেই। প্রত্যেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব। ধার-দেনা করে কয়েকজন ব্যবসায়ী চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে মৌসুমী ফড়িয়াদের দৌরাত্মের আশঙ্কা করছি। এসব ফড়িয়ারা বিদেশীদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে মাদ্রাসাগুলোতে দাদন (অগ্রিম অর্থ প্রদান) দিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। তার মানে, চামড়ার পাচারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি।

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, কোরবানির সময় চামড়া পাচার প্রতিরোধে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স থেকে দেশের ৬৬০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। খুলনা বিভাগের সীমান্তবর্তী এলাকাসমূহের থানাগুলোকে কঠোর সতর্কাবস্থায় থাকতে নিদের্শ দেয়া হয়েছে। কোনভাবেই দেশের একটি পশম পাচার করতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

র‌্যাব-৬ অধিনায়ক লেঃ কর্নেল রওশোনুল ফিরোজ বলেন, র‌্যাবের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারী থাকছে। কোনভাবেই চামড়া পাচার করতে দেয়া হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ফুলতলা মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশ চামড়া শিল্পে অপার সম্ভাবনাময় খাত। যদিও কাঁচা চামড়ার মূল্য তলানিতে আর চামড়াজাত পন্যের দাম আকাশচুম্বী। এ বৈষম্যের মূল কারণ পাচার। তাছাড়া অসম শিল্পনীতি ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চামড়া শিল্পটি মার খাচ্ছে। দেশে মূল্য কম, মানেই তো পাচারের আশঙ্কা অনেক বেশি। পাচার রোধ করতে না পারলে পাটশিল্পের মতোই চামড়া শিল্পও একদিন হারিয়ে যাবে। সূত্র : সময়ের খবর

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here