খুলনা-২ আসনে এমপি মিজানকে আবারও চায় তৃণমূল আ’লীগ

0
5277

আমাদের খুলনা ডেস্ক :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-২ আসনকে (সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা নিয়ে গঠিত) মর্যাদার আসন হিসেবে বরাবরই বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এমপি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক কাজ করছেন। তিনি সকল পর্যায়ের মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে সভা, সেমিনার, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

বর্তমান সরকার আমলে জননেতা আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান খুলনা-২ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। তার উন্নয়নের ছোয়া পড়েনি এই আসনে এমন কোন এলাকা নেই। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় ও সামাজিক সকল প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নে মিজানুর রহমান মিজান এমপি’র বিকল্প নেই। তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের পাশাপাশি আনন্দ উৎসবের পাশে থাকেন। সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি খুলনার সাধারণ মানুষের কাছে ব্যক্তি ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সর্ম্পক গড়ে উঠেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অবহেলিত অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান, খুলনা-২ আসনে বসবাসরত দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিমত।

আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বলিষ্ঠ প্রার্থী আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজানের কোন বিকল্প নেই। মাঠ পর্যায়ে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। হাজার হাজার মানুষকে বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাজার হাজার গরিব অসহায় মানুষকের সহায়তা দেয়া, এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও ভাল ফলাফল করা কলেজগুলোর শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন সময় নানাভাবে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। ফলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের কাছে এমপি মিজানুর রহমান মিজান এখন অনেক জনপ্রিয় নেতা বলেই পরিচিত। এ আসনে জয়ের ধারা ধরে রাখতে এমপি মিজানুর রহমান মিজান’র বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগের একাধিক সমর্থকরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করা হলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা শতভাগ বিজয় অর্জন করতে পারবে। কতিপয় হাইব্রিড নেতারা বসন্তের কোকিলের ন্যায় নিজ এলাকায় ফিরে মনোনয়ন পেতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। ওইসব হাইব্রিড নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে আওয়ামী লীগকে চরম খেসারত দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

খুলনা-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। এই দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বা যে কোনো নির্বাচনে একাধিক নেতা প্রার্থী হতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। বিভেদ সৃষ্টি করলে দল সেটি মনে নেবে না। দল যাকে নৌকা প্রতীক দেবে সবাইকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তার পক্ষেই থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও ভোটের আগে সবাই এক জায়গায় হয়ে কাজ করবেন।’

তিনি বলেন, বিভাগীয় সদরের এই আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সভা-সমাবেশ ছাড়াও তিনি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছেন।

খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা নিয়ে গঠিত খুলনা-২ আসন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মাত্র দুই বার এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বিগত দিনে এ আসনে বিএনপিরই প্রাধান্য দেখা গেছে। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের এমএ বারী, ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগের খান এ সবুর, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মোঃ মহসীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে শেখ রাজ্জাক আলী (বর্তমানে মৃত) বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে জয়ী হওয়ার পর তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার করেছিলো বিএনপি সরকার। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এরপর তার ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মহানগর বিএনপির তৎকালীন মহানগর আহবায়ক আলী আসগার লবী।

আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৯০ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছিলেন ৮৯ হাজার ২৮০ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র এক হাজার ৬৭০। সবশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here