খুলনায় দৃষ্টিনন্দন ১১টি মডেল মসজিদ নির্মাণে স্থবিরতা

0
6

অর্থ বরাদ্দের স্বল্পতা ও জমি অধিগ্রহণ জটিলতা অন্যতম কারণ

আমাদের খুলনা ডেস্ক
অর্থ বরাদ্দের স্বল্পতা ও জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় খুলনায় ১১টি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত মসজিদ থাকলেও একই স্থান থেকে বিভিন্ন ইসলামিক কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো মডেল মসজিদ নেই। তাই এ ধরনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা ও বিভাগীয় কমিশনার অফিসসহ ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, রূপসা, দিঘলিয়া, ফুলতলা, কয়রা, তেরখাদা, দাকোপ ও পাইকগাছা এই নয় উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে নির্মিত হচ্ছে তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদ। প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা অর্থাৎ নয় উপজেলায় নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে মোট ১১৭ কোটি টাকা। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা অর্থাৎ আলিয়া মাদ্রাসা ও বিভাগীয় কমিশনার অফিসে দু’টি মসজিদ নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ৩০ কোটি টাকা। ৪তলা বিশিষ্ট এ দু’টি মসজিদে থাকবে রেস্টরুম, লাইব্রেরী, গাড়ি পার্কিং ও লিফট, একসাথে ১ হাজার পুরুষ ও মহিলা মুসল্লির আলাদা নামাজের ব্যবস্থাসহ দৃষ্টিনন্দন করার নানা পরিকল্পনা। চলতি বছরের মধ্যেই এসব মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলিয়া মাদ্রাসায় জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শতকরা ৪৫ ভাগ কাজ শেষ হলেও বিভাগীয় কমিশনার অফিসসহ বাকি নয় উপজেলায় ১০টি মসজিদ নির্মাণ কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার অফিস, ডুমুরিয়া, রূপসা, ফুলতলা, তেরখাদা, দাকোপ ও পাইকগাছায় মাত্র গড়ে শতকরা মাত্র ১০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। আর বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া ও কয়রায় পুরানো স্থাপনা অপসারণ, জমি অধিগ্রহণ ও লে-আউট জটিলতায় কাজ আরম্ভ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন বিন জামান বলেন, দৃষ্টিনন্দন মজজিদগুলো নির্মিত হলে ওইসব স্থান থেকেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নিরুসাহিত করতে সকল দিক নির্দেশনা প্রদান করা যাবে। ইসলামিক সংস্কৃতিক চর্চা ও একসাথে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লির নামাজ পড়তে পারবেন। হেফজখানা, পাঠাগার, প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা কার্যক্রম, শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা, হজ্ব রেজিস্ট্রেশন, বিদেশী মেহমানদের থাকা ও পার্কিং ব্যবস্থা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা খুলনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুর ইসলাম বলেন, আলিয়া মাদ্রাসায় জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজে শতকরা ৪৫ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু বাকিগুলো অর্থ বরাদ্ধের স্বল্পতা, স্থান নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ ও পুরানো স্থাপনা অপসারণ জটিলতায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। তবে ২০২১ সালের মধ্যে সকল মসজিদ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সূত্র : সময়ের খবর

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here