কেসিসি’র দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানান্তর হচ্ছে পাঁচ হাজার বৈদ্যুতিক পোল

0
100

আমাদের খুলনা ডেস্ক
মহানগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৮৪৩ কোটি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও উন্নয়নে ৬০৮ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩১টি ওয়ার্ডে প্রায় পাঁচ হাজার বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওইসব পোল স্থানান্তরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষের নিকট ডিও লিটার দিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। তবে ওজোপাডিকোর বলছে, সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন দরকার। তাই জনস্বার্থে শিগগিরই ব্যয় নিরূপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে নগরবাসী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ময়ূর নদীসহ ১২টি খাল খনন করা হয়। কিন্তু খনন কাজে অনিয়মসহ নানা কারণে দুই বছরের মধ্যে ময়ূর নদী ভরাট হয়ে যায়। অপর দিকে নগর জুড়ে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে এখন হাটুপানি জমে যায়। এ পরিস্থিতিতে সর্বশেষ কেসিসি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২২টি খাল পুনঃখনন ও পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করে নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার প্রতিশ্র“তি দেন তালুকদার আব্দুল খালেক। তার প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নে কেসিসি’র প্রকৌশল বিভাগকে নতুন প্রকল্প তৈরির নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ৮৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করা হয়।

অপরদিকে, নগরীতে তালিকাভুক্ত সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২১৫টি। এসব সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির থোক বরাদ্দ থেকে প্রতিবছরই এসব সড়কের ছোট ছোট সড়ক সংস্কার করা হয়। কিন্তু বড় সড়ক সংস্কারের জন্য প্রকল্পের সাহায্য নিতে হয়। তাই ২০১৪ সালে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন হয়নি। পরে আরও কয়েকটি প্রকল্প পাঠানো হলেও সেগুলোও অনুমোদন পায়নি। ফলে সার্বিক কাজ একরকম মুখথুবড়ে ছিলো। এ অবস্থায় নির্বাচনের কয়েকদিন পরই নবনির্বাচিত মেয়র নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতের জন্য প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ৫১৩টি এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৬০টিসহ মোট ৫৭৩টি সড়কের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে এর ব্যয় নির্ধারণ করে ৬০৮ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়।

কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮৪৩ কোটি এবং সড়ক মেরামতের ৬০৮ কোটি টাকার পৃথক দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে। বর্তমানে প্রকল্প দু’টির বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়নে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৯২৯টি বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে ১৬২টি পোল, ২নং ওয়ার্ডে ১০৬, ৩নং ওয়ার্ডে ১০৭, ৪নং ওয়ার্ডে ২১২, ৫নং ওয়ার্ডে ১৭, ৬নং ওয়ার্ডে ৭৭, ৭নং ওয়ার্ডে ৪৮, ৮নং ওয়ার্ডে ১০, ৯নং ওয়ার্ডে ১৯৪, ১০নং ওয়ার্ডে ৫৫৭, ১১নং ওয়ার্ডে ৫৪, ১২নং ওয়ার্ডে ২৮১, ১৩নং ওয়ার্ডে ৪৩, ১৪নং ওয়ার্ডে ১২৯, ১৫নং ওয়ার্ডে ১৬১, ১৬নং ওয়ার্ডে ৬৫, ১৭নং ওয়ার্ডে ১১৩, ১৮নং ওয়ার্ডে ৩৫৭, ১৯নং ওয়ার্ডে ৭৯, ২০নং ওয়ার্ডে ২৬৫, ২১নং ওয়ার্ডে ২২৩, ২২নং ওয়ার্ডে ১১৯, ২৩নং ওয়ার্ডে ১৭৮, ২৪নং ওয়ার্ডে ৩৩৪, ২৫ নং ওয়ার্ডে ৮৪, ২৬ নং ওয়ার্ডে ৫৯, ২৭নং ওয়ার্ডে ১৬৬, ২৮নং ওয়ার্ডে ৭২, ২৯ নং ওয়ার্ডে ২২৫, ৩০নং ওয়ার্ডে ৮২ এবং ৩১ নং ওয়ার্ডে ৩৫০টি পোল। ইতোমধ্যে ওইসব পোল স্থানাস্তরে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষের নিকট ডিও লিটার প্রদান করেছে সিটি কর্পোরেশন।

কর্পোরেশন নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শেখ বলেন, প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়নে সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণ দরকার। কিন্তু সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণ করতে গেলে পোল গুলো স্থানান্তর করতে হবে। তাই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষকে ডিও লিটার প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওজোপাডিকো’র এমডি প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন বলেন, পোল গুলো সরেজমিন পরিদর্শণ করে শিগগিরই ব্যয় নিরূপন করা হবে। তবে ব্যয় যদি বেশি হয় সেক্ষেত্রে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পোল স্থানান্তর করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here