আল্লামা আহমদ শফীর দাফন সম্পন্ন

0
13

আমাদের খুলনা ডেস্ক
হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বেলা ২টা ১৫ মিনিটে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

মাদ্রাসার উত্তর-দক্ষিণ পাশের সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা অংশ নেন। পরে তাকে মাদ্রাসার ভেতর উত্তর মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ। জানাজার আগে তিনি উপস্থিত লোকজনসহ দেশবাসীর কাছে তার বাবার জন্য দোয়া চান।

জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় সংসদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন খান, এসপি এস এম রশীদুল হকসহ হেফাজতে ইসলামের নেতারা।

শনিবার দুপুরে এই জানাজাকে কেন্দ্র করে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা সংলগ্ন হাটহাজারী এলাকা।

চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসে মানুষ এই জানাজায় অংশ নেয়। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের সারি কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টায় তার মরদেহবাহী গাড়িটি মাদরাসা প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়। এসময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আল্লামা শফীর মৃত্যুর খবরে শুক্রবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন লাখো ভক্ত অনুসারী।

মুকুটহীন এ সম্রাটের মরদেহ পৌঁছানোর আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণসহ পুরো হাটহাজারী এলাকা।

চারদিক থেকে আসা মানুষের সহায়তায় রাস্তায় শুকনো খাবার ও শরবতসহ নানা পানীয় নিয়ে বিতরণ করছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। পুরো হাটহাজারীর সব প্রবেশ পথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

এক নজরে আল্লামা শফীর কর্মজীবন:

আল্লামা শফীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসায়। এরপর পটিয়ায়র আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদ্রাসা) লেখাপড়া করেন। ১৯৪০ সালে তিনি হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় যান, সেখানে চার বছর লেখাপড়ার সময় উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেম শায়খুল হাদিস হুসাইন আহমদ মাদানির ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন আহমদ শফী। এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি ওই পদে ছিলেন। ছাত্র বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার তিনি অসুস্থতার কারণে মহাপরিচালক পদ থেক নিজেই অব্যাহতি নেন। তবে তাকে আমৃত্যু সদরুল মুহতামিম বা উপদেষ্টা হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। দেশের আলেমদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র আহমদ শফী বাংলায় ১৩টি এবং উদুর্তে নয়টি বইয়ের রচয়িতা।

মূলত ২০১৩ সালে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর তার বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে মাঠে নেমে আলোচনায় উঠে আসেন আহমদ শফী। জীবদ্দশায় হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশেরও (বেফাক) সভাপতি পদে ছিলেন। এছাড়া কওমি মাদ্রাসাগুলোর সমন্বিত বোর্ড আল হাইয়াতুল উলয়ার তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার নেতৃত্বেই ২০১৭ সালে সরকার কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেয়।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে কিছু দিন বন্ধ থেকে মাদ্রাসা খোলার পর গত বুধবার আকস্মিকভাবে কয়েক শ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা আহমদ শফীর অব্যাহতি এবং তার ছেলে আনাস মাদানির বহিষ্কার দাবিতে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরও চালান। পরে বুধবার মাদ্রাসার শূরা কমিটি বৈঠক করে আনাস মাদানিকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ হলে সরকার কওমি মাদ্রাসাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই চিঠি পাওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাতে আহমদ শফীর নেতৃত্বে বৈঠকে বসে মাদ্রাসার শূরা কমিটি। সেখানে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন আল্লামা শফী। এসময় তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা ও নতুন মুহতামিম মনোনয়নের দায়িত্ব শূরা কমিটিকে দিয়ে দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here